মেঘের দেশে ৪ রাত ৫ দিন: Best Fly Tours-এর সাথে স্বপ্নের ভুটান ভ্রমণ

Best Fly Tours and Travels
0

 

ভুটান ভ্রমণ

বাংলাদেশ থেকে বজ্রপাতের দেশ ও হিমালয়ের কোলে অবস্থিত শান্তিময় দেশ ভুটান ভ্রমণের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। বাংলাদেশিদের জন্য ভুটান ভ্রমণ অত্যন্ত সহজ, কারণ বাংলাদেশিদের কোনো পূর্ববর্তী ভিসার প্রয়োজন হয় না।

১. ভিসা ও এন্ট্রি পারমিট প্রক্রিয়া
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভুটানের ভিসা প্রক্রিয়া মূলত অন-অ্যারাইভাল (Visa on Arrival)। অর্থাৎ, আগে থেকে কোনো ভিসা না নিয়ে সরাসরি ভুটান সীমান্তে বা বিমানবন্দরে গিয়ে পারমিট নেওয়া যায়। তবে ঝামেলা এড়াতে বা ছুটির দিনে ভ্রমণের জন্য চাইলে আগে থেকেই ভুটান ইমিগ্রেশন পোর্টাল থেকে অনলাইনে অথবা অনুমোদিত ভুটানিজ ট্যুর এজেন্সির মাধ্যমে অ্যাডভান্স অনলাইন পারমিট করিয়ে নেওয়া ভালো। 
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
  • অন্তত ৬ মাসের মেয়াদসহ মূল পাসপোর্ট।
  • হোটেল বুকিংয়ের কনফার্মেশন ভাউচার (ভুটান সরকার অনুমোদিত ৩-তারকা বা তার উপরের হোটেল হতে হবে)।
  • রিটার্ন বিমান টিকিট (আকাশপথে গেলে)।
  • লাইসেন্সধারী ভুটানিজ গাইড ও লোকাল গাড়ির বুকিং বিবরণী (ভুটানে গাইড ছাড়া ভ্রমণ করা যায় না)। 
SDF বা ভ্রমণ ফি:
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভুটান সরকার প্রতিদিনের জন্য ১৬ মার্কিন ডলার (USD) হারে SDF (Sustainable Development Fee) বা টেকসই উন্নয়ন ফি নির্ধারণ করেছে। এটি ভ্রমণের দিন অনুযায়ী আগে বা অন-অ্যারাইভালের সময় পরিশোধ করতে হয়। 
২. বাংলাদেশ থেকে ভুটান যাওয়ার রুট বা উপায়
বাংলাদেশ থেকে মূলত দুটি উপায়ে ভুটান যাওয়া যায়: 
✈️ আকাশপথে (সবচেয়ে দ্রুত ও সহজ)
  • ঢাকা (DAC) থেকে পারো (PBH): ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভুটানের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 'পারো'-তে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে ভুটানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ড্রুক এয়ার (Drukair)।
  • প্রক্রিয়া: ঢাকা থেকে বিমানে সরাসরি পারো নামবেন। সেখানে ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট ও হোটেল বুকিং দেখালে সহজেই ৭ দিনের অন-অ্যারাইভাল পারমিট দিয়ে দেওয়া হবে। 
🚌 সড়কপথে (কম খরচে ভ্রমণের জন্য)
সড়কপথে যেতে হলে ভারতকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। তাই সড়কপথে যাওয়ার প্রথম শর্ত হলো পাসপোর্টে ভারতীয় ডাবল এন্ট্রি ট্রানজিট ভিসা বা চ্যাংড়াবান্ধা/জয়গাঁও পোর্টসহ ভারতীয় ভিসা থাকতে হবে। 
  • রুট: ঢাকা ➔ বুড়িমারী বর্ডার (লালমনিরহাট) ➔ চ্যাংড়াবান্ধা বর্ডার (ভারত) ➔ জয়গাঁও বর্ডার (ভারত) ➔ ফুন্টশোলিং (ভুটানের প্রবেশদ্বার)। 
  • প্রক্রিয়া:
    1. ঢাকা থেকে বাসে করে বুড়িমারী গিয়ে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন শেষ করে ভারতের চ্যাংড়াবান্ধায় প্রবেশ করবেন।
    2. চ্যাংড়াবান্ধা থেকে লোকাল গাড়ি বা ট্যাক্সি নিয়ে ভারতের শেষ সীমান্ত শহর জয়গাঁও (Jaigaon) পৌঁছাবেন।
    3. জয়গাঁও বর্ডারের ঠিক ওপাশেই ভুটানের সীমান্ত শহর ফুন্টশোলিং (Phuentsholing)। ফুন্টশোলিং ইমিগ্রেশন অফিসে আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং SDF ফি জমা দিয়ে ভুটানে প্রবেশের মূল এন্ট্রি পারমিট সংগ্রহ করবেন。
    4. পারমিট পাওয়ার পর ফুন্টশোলিং থেকে গাড়ি ভাড়া করে ভুটানের রাজধানী থিম্পু বা পারো চলে যেতে পারবেন। 
৩. খরচ ও কিছু জরুরি টিপস

  • খরচ: সড়কপথে গেলে যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে জনপ্রতি সাধারণত ৩৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা (SDF বাদে) খরচ হতে পারে। তবে বিমান বা লাক্সারি প্যাকেজে গেলে এই খরচ ১.৫ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। 
  • ভ্রমণের সেরা সময়: সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এবং মার্চ থেকে মে মাস ভুটান ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে সেরা সময়। এই সময় আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং হিমালয়ের সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়। 
  • টাকা লেনদেন: ভুটানের মুদ্রা হলো 'নুলট্রাম' (Nu)। তবে সেখানে ভারতীয় রুপি (১০০, ৫০, ২০ ও ১০ রুপির নোট) ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। আপনি বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড এন্ডোর্স করে নিতে পারেন অথবা ডলার নিয়ে গিয়ে সেখানে এক্সচেঞ্জ করতে পারেন।


                 নিজে নিজে পারমিট প্রসেস করার ২টি নিখুঁত নিয়ম হলো:
নিয়ম ১: অ্যাডভান্স অনলাইন ই-পারমিট (সবচেয়ে নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত)
ভুটান সরকার ইদানীং লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা এড়াতে আগে থেকেই অনলাইন পারমিট করাকে উৎসাহিত করে। আপনি সহজেই নিজে এটি করতে পারেন: 
  • ধাপ ১: পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন
    প্রথমে ভুটান ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস পোর্টাল (immi.gov.bt)-এ যান। সেখানে "Sign Up"-এ ক্লিক করে আপনার নাম, ইমেইল আইডি এবং একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। আপনার ইমেইলে আসা ৬ ডিজিটের ভেরিফিকেশন কোডটি দিয়ে অ্যাকাউন্ট সচল করুন।
     
  • ধাপ ২: প্রোফাইল আপডেট
    লগ-ইন করার পর প্রোফাইল আপডেট করার অপশন আসবে। সেখানে এজেন্সি টাইপ হিসেবে "Individual" সিলেক্ট করুন এবং আপনার দেশের নাম (Bangladesh), ফোন নম্বর ও ঠিকানা সঠিকভাবে দিন।
     
  • ধাপ ৩: তথ্য ও ডকুমেন্ট আপলোড
    এবার "Tourist Visa/Permit" মডিউলে গিয়ে "Start New Application" এবং তারপর "Add Individual"-এ ক্লিক করুন। এরপর নিচের ডকুমেন্টগুলো আপলোড ও তথ্য পূরণ করতে হবে:
    • আপনার পাসপোর্টের প্রথম পৃষ্ঠার পরিষ্কার স্ক্যান কপি (মেয়াদ অন্তত ৬ মাস থাকতে হবে)।
    • একটি সাম্প্রতিক ডিজিটাল পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
    • আপনার ভুটানে প্রবেশ ও প্রস্থানের তারিখ (Arrival & Exit Dates)।
    • আপনার পেশা, জন্মতারিখ এবং হোটেলের নাম ও বুকিং বিবরণী। 
  • ধাপ ৪: SDF ফি পরিশোধ
    সব তথ্য দেওয়ার পর আপনাকে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে প্রতিদিনের জন্য ১৬ মার্কিন ডলার (USD) হারে SDF (Sustainable Development Fee) বা টেকসই উন্নয়ন ফি পরিশোধ করতে হবে। আপনার আন্তর্জাতিক ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড (যেটিতে পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট করা আছে) ব্যবহার করে এই পেমেন্ট করতে পারবেন। বাংলাদেশিদের জন্য কোনো বাড়তি ভিসা ফি ($৪০) লাগে না, শুধুমাত্র প্রতিদিনের SDF ফি দিতে হয়।
     
  • ধাপ ৫: পারমিট ডাউনলোড
    আবেদন সাবমিট করার পর সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপনার ইমেইলে ডিজিটাল এন্ট্রি পারমিট (e-Permit) চলে আসবে। এটি প্রিন্ট করে সাথে নিয়ে ভ্রমণ করবেন।
     
নিয়ম ২: অন-অ্যারাইভাল পারমিট (সরাসরি বর্ডার বা বিমানবন্দরে)
আপনি যদি অনলাইনে আগে থেকে না করতে চান, তবে সরাসরি ভুটানে পৌঁছেও নিজে নিজে পারমিট নিতে পারেন। 
  • আকাশপথে গেলে (পারো বিমানবন্দর): বিমান থেকে নামার পর পারো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ডেস্কে যাবেন।
  • সড়কপথে গেলে (ফুন্টশোলিং বর্ডার): ভারতের জয়গাঁও বর্ডার পার হয়ে ভুটানের প্রবেশদ্বার 'ফুন্টশোলিং ইমিগ্রেশন অফিসে' যাবেন।
  • প্রক্রিয়া:
    ইমিগ্রেশন কাউন্টার থেকে একটি ফর্ম দেবে, সেটি পূরণ করবেন। এরপর আপনার পাসপোর্ট, ২ কপি ছবি, ৩-তারকা হোটেলের কনফার্ম বুকিং কপি এবং ভুটানিজ গাইডের বুকিং পেপার প্রদর্শন করবেন। সেখানে কাউন্টারেই ক্যাশে (ইউএস ডলারে অথবা সমপরিমাণ রুপি/নুলট্রামে) আপনার ভ্রমণের দিন অনুযায়ী SDF ফি জমা দিয়ে পাসপোর্ট সিল করিয়ে নিতে পারবেন।
     
⚠️ নিজে নিজে প্রসেস করার ক্ষেত্রে অতি জরুরি সতর্কবার্তা
১. গাইড ও গাড়ি বুকিং বাধ্যতামূলক: আপনি নিজে নিজে পারমিট কাটলেও ভুটান সরকারের নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্সধারী স্থানীয় গাইড এবং লোকাল গাড়ি বুকিং করা ছাড়া কোনো পর্যটক ভুটানে ভ্রমণ করতে পারবেন না। তাই অনলাইনে বা বর্ডারে পারমিট করার আগেই একজন ভুটানিজ গাইডের সাথে যোগাযোগ করে তাঁর লাইসেন্স নম্বর ও গাড়ির বিবরণ সংগ্রহ করে নেবেন।
২. হোটেল রেটিং: আপনার বুক করা হোটেলটি অবশ্যই ভুটান ট্যুরিজম বোর্ড অনুমোদিত ন্যূনতম ৩-তারকা (3-Star) বা তার বেশি মানের হতে হবে। এর কম মানের হোটেলে বুকিং থাকলে ইমিগ্রেশন পারমিট রিজেক্ট করে দেবে।
৪ রাত ৫ দিনের একটি নিখুঁত ট্যুর প্ল্যানে ভুটানের প্রধান দুটি সুন্দর শহর—থিম্পু (Thimphu) ও পারো (Paro) খুব চমৎকারভাবে ঘুরে দেখা সম্ভব।
                      🗓️ ৪ রাত ৫ দিনের আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা
  • ১ম দিন: ফুন্টশোলিং/পারো থেকে থিম্পু আগমন ও বিশ্রাম
    • কী করবেন: আপনি বিমান বা সড়ক যেভাবেই আসুন না কেন, প্রথম দিন দুপুরের মধ্যে ভুটানের রাজধানী থিম্পু পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। হোটেলে চেক-ইন করে একটু বিশ্রাম নিন।
    • সন্ধ্যায়: থিম্পু শহরের প্রাণকেন্দ্র 'নোরজিন লাম' (Norzin Lam) রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করুন এবং স্থানীয় ক্লক টাওয়ার স্কয়ার ঘুরে দেখুন।
    • রাত্রিযাপন: থিম্পু।
  • ২য় দিন: থিম্পু শহরের দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ (Thimphu Sightseeing)
    • বুদ্ধ ডর্ডেনমা (Buddha Dordenma): পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ১৬৯ ফুট উঁচু বিশাল ও অত্যন্ত সুন্দর ব্রোঞ্জের বুদ্ধ মূর্তি। এখান থেকে পুরো থিম্পু শহরের প্যানোরামিক ভিউ দেখা যায়।
    • সিম্পলি ভুটান (Simply Bhutan): এটি একটি লিভিং মিউজিয়াম, যেখানে ভুটানের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রা, পোশাক (ঘো এবং কিরা) পরা এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী নাচ উপভোগ করা যায়।
    • ন্যাশনাল মেমোরিয়াল চোরতেন (National Memorial Chorten): শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি স্তূপ, যেখানে স্থানীয় মানুষজন প্রতিদিন প্রার্থনা করতে আসেন।
    • তাশিসো জং (Tashichho Dzong): ভুটানের সরকার ও ধর্মের মূল কেন্দ্রবিন্দু। সন্ধ্যার সময় যখন এটি লাইটিং করা হয়, তখন দেখতে অসাধারণ লাগে।
    • রাত্রিযাপন: থিম্পু।
  • ৩য় দিন: দোচুলা পাস হয়ে পারো যাত্রা
    • দোচুলা পাস (Dochula Pass): থিম্পু থেকে পারো যাওয়ার পথে সকালে ১০,০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত দোচুলা পাস ঘুরে যান। এখানে ১০৮টি স্মৃতিস্তূপ (Chortens) রয়েছে এবং আকাশ পরিষ্কার থাকলে তুষারাবৃত হিমালয় পর্বতমালা দেখা যায়।
    • পারো জং (Rinpung Dzong): পারো পৌঁছে বিকেলে এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গটি ঘুরে দেখুন। এটি ভুটানি স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন।
    • পারো এয়ারপোর্ট ভিউ পয়েন্ট: পারো বিমানবন্দরটি পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক ও সুন্দর বিমানবন্দর। ভিউ পয়েন্ট থেকে রানওয়ের চমৎকার ছবি তোলা যায়।
    • রাত্রিযাপন: পারো।
  • ৪র্থ দিন: টাইগার্স নেস্ট ট্রেকিং (The Ultimate Highlight)
    • টাইগার্স নেস্ট বা পারো তাকসাং (Paro Taktsang): এটি ভুটানের সবচেয়ে বিখ্যাত ও পবিত্র দর্শনীয় স্থান। পাহাড়ের প্রায় ৩,০০০ ফুট খাড়া পাথুরে দেয়ালে ঝুলন্ত অবস্থায় এই মনাস্ট্রিটি অবস্থিত।
    • কীভাবে যাবেন: এখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই, সম্পূর্ণ হেঁটে পাহাড়ি পথ বেয়ে উঠতে হয়। ওঠা-নামা মিলিয়ে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। শারীরিক ক্লান্তি থাকলেও ওপরের দৃশ্য ও মানসিক শান্তি সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে। (অর্ধেক রাস্তা পর্যন্ত ঘোড়ার পিঠে চড়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও আছে)।
    • রাত্রিযাপন: পারো।
  • ৫ম দিন: বিদায় ভুটান
    • সকালে হোটেল থেকে চেক-আউট করে আপনার টিকিট বা রুট অনুযায়ী পারো বিমানবন্দর অথবা সড়কপথে ফুন্টশোলিং বর্ডারের উদ্দেশ্যে রওনা দিন এবং বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করুন।
🚖 এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কীভাবে যাবেন?
ভুটান সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, পর্যটকদের জন্য আগে থেকেই গাড়ি এবং গাইড বুকিং করা বাধ্যতামূলক। আপনি নিজে একা একা লোকাল বাস বা ট্যাক্সি নিয়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতে পারবেন না।
  • প্রক্রিয়া: আপনি যখন নিজে নিজে পারমিট করবেন (আগের ধাপে যেভাবে বলা হয়েছে), তার আগেই একজন অনুমোদিত ভুটানিজ গাইড/ড্রাইভারের সাথে চুক্তি করে নেবেন।
  • যাতায়াত মাধ্যম: আপনার বাজেট ও ট্যুরিস্ট সংখ্যা অনুযায়ী তারা আপনাকে ৪ বা ৫ দিনের জন্য একটি প্রাইভেট কার (যেমন: Hyundai Tucson, Santa Fe) বা হাইবোর্ড মাইক্রোবাস বুক করে দেবে।
  • সুবিধা: এই বুক করা গাড়ি এবং গাইড প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আপনার হোটেলের সামনে থাকবে এবং রুট প্ল্যান অনুযায়ী আপনাকে সব দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখাবে। গাড়ির জ্বালানি ও ড্রাইভারের খরচ সাধারণত প্যাকেজের ভেতরেই অন্তর্ভুক্ত থাকে।
🇧🇹 ৪ রাত ৫ দিনের এক্সক্লুসিভ ভুটান ট্যুর প্ল্যান (Best Fly Tours & Travels)
🗓️ দিন ১: ঢাকা থেকে পারো (✈️ বিমান) / ফুন্টশোলিং (🚌 সড়ক) ➔ থিম্পু
  • সকাল: ঢাকা থেকে রওনা হয়ে পারো বিমানবন্দর অথবা সড়কপথে ফুন্টশোলিং বর্ডারে পৌঁছাবেন। সেখানে Best Fly Tours And Travels এর নির্ধারিত ইমিগ্রেশন রিপ্রেজেন্টেটিভ আপনার পারমিটের কাজ সম্পন্ন করে দেবে এবং আপনাকে রিসিভ করবে।
  • দুপুর/বিকাল: আপনার জন্য বরাদ্দকৃত প্রাইভেট গাড়িতে করে পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে ভুটানের রাজধানী থিম্পু যাত্রা (পারো/ফুন্টশোলিং থেকে থিম্পুর দূরত্ব চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্যে ঘেরা)।
  • সন্ধ্যা: থিম্পুর ৩-তারকা হোটেলে চেক-ইন। সন্ধ্যার পর লোকাল গাইড আপনাকে নিয়ে থিম্পু শহরের বিখ্যাত ক্লক টাওয়ার স্কয়ার এবং লোকাল মার্কেট ঘুরিয়ে দেখাবে।
  • রাত্রিযাপন: থিম্পু।
🗓️ দিন ২: থিম্পু লোকাল সাইটসিয়িং (সম্পূর্ণ দিন)
  • সকাল ০৯:০০: ব্রেকফাস্ট শেষ করে গাইড ও গাড়িসহ থিম্পু দর্শনে বের হওয়া।
    • বুদ্ধ ডর্ডেনমা (Buddha Point): পাহাড়ের চূড়ায় ১৬৯ ফুট উঁচু ব্রোঞ্জের বুদ্ধ মূর্তি দর্শন।
    • ন্যাশনাল মেমোরিয়াল চোরতেন: ভুটানিজদের পবিত্র প্রার্থনাস্থল।
  • দুপুর: লোকাল রেস্তোরাঁয় ঐতিহ্যবাহী ভুটানিজ দুপুরের খাবার (যেমন: এমা দাতসি)।
  • বিকাল: সিম্পলি ভুটান (Simply Bhutan) মিউজিয়াম। এখানে আপনি ভুটানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক 'ঘো' (Gho) বা 'কিরা' (Kira) পরে ছবি তুলতে পারবেন এবং তাদের কালচারাল ড্যান্স উপভোগ করবেন।
  • সন্ধ্যা: আলো ঝলমলে তাশিসো জং (Tashichho Dzong) এর রাজকীয় রূপ দর্শন।
  • রাত্রিযাপন: থিম্পু।
🗓️ দিন ৩: থিম্পু ➔ দোচুলা পাস ➔ পারো যাত্রা
  • সকাল ০৮:৩০: থিম্পু থেকে পারোর উদ্দেশ্যে রওনা।
  • সকাল ০৯:৩০: পথে পড়বে ১০,০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত বিখ্যাত দোচুলা পাস (Dochula Pass)। এখানে ১০৮টি মেমোরিয়াল স্তূপ দেখে এবং মেঘের ওপরে হিমালয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করে পারোর দিকে যাত্রা।
  • দুপুর: পারো শহরে পৌঁছে হোটেলে চেক-ইন এবং লাঞ্চ।
  • বিকাল: ঐতিহাসিক পারো জং (Rinpung Dzong) এবং পারো নদীর তীরে চমৎকার কিছু ছবি তোলা। এরপর পারো এয়ারপোর্ট ভিউ পয়েন্ট থেকে পাহাড়ের খাঁজে প্লেন ল্যান্ডিংয়ের রোমাঞ্চকর দৃশ্য দেখা।
  • রাত্রিযাপন: পারো।
🗓️ দিন ৪: টাইগার্স নেস্ট মনাস্ট্রি ট্রেকিং (ভুটানের মূল আকর্ষণ)
  • সকাল ০৭:৩০: সকাল সকাল ব্রেকফাস্ট করে ড্রাইভার আপনাকে পারো তাকসাং (Tiger's Nest) এর বেস ক্যাম্পে নামিয়ে দেবে।
  • ট্রেকিং: গাইড সহকারে পাহাড়ের ৩,০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত ঝুলন্ত মনাস্ট্রির উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরু। (ওঠা-নামা মিলিয়ে ৫-৬ ঘণ্টা লাগবে। প্রয়োজনে বেস ক্যাম্প থেকে অর্ধেক রাস্তা পর্যন্ত ঘোড়া ভাড়া করতে পারবেন, যা গাইড ম্যানেজ করে দেবে)।
  • বিকাল: ট্রেকিং শেষে হোটেলে ফিরে এসে বিশ্রাম অথবা পারোর ঐতিহ্যবাহী হট স্টোন বাথ (Hot Stone Bath) নিতে পারেন (ক্লান্তি দূর করার জন্য দারুণ, এটি প্যাকেজের বাইরে আলাদা চার্জে নিতে হয়)।
  • রাত্রিযাপন: পারো।
🗓️ দিন ৫: পারো/থিম্পু থেকে বিদায় ও ঢাকা প্রত্যাবর্তন
  • সকাল: ব্রেকফাস্ট শেষে হোটেল থেকে চেক-আউট।
  • প্রস্থান: বিমানযাত্রী হলে গাইড আপনাকে পারো বিমানবন্দরে ড্রপ করবে। আর সড়কপথের যাত্রী হলে প্রাইভেট কারে করে ফুন্টশোলিং বর্ডারে এনে বর্ডার পার করিয়ে দেওয়া হবে। বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা ও ট্যুরের সমাপ্তি।
আপনার ভুটান ভ্রমণকে ঝামেলামুক্ত করতে Best Fly Tours and Travels দিচ্ছে ওয়ান-স্টপ সলিউশন:
  • কাস্টমাইজড ট্যুর প্যাকেজ: আপনার বাজেট অনুযায়ী সেরা ভুটান প্যাকেজ ডিজাইন।
  • ভিসা ও পারমিট সাপোর্ট: ভুটানের এন্ট্রি পারমিট ও SDF ফি ম্যানেজমেন্ট।
  • এয়ার টিকিট: ড্রুক এয়ারসহ যেকোনো লাইন্সের সাশ্রয়ী টিকিট বুকিং।
  • হোটেল বুকিং: ৩-তারকা ও লাক্সারি হোটেল বুকিং সুবিধা।
💼 Best Fly Tours And Travels-এর মাধ্যমে বুকিং করার প্রসেস
আপনি যদি এই প্ল্যানটি তাদের মাধ্যমে চূড়ান্ত করতে চান, তবে নিচের প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করুন:
  1. যোগাযোগ ও কোটেশন: প্রথমে Best Fly Tours And Travels-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট অথবা হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন। তাদের জানান যে আপনি "৪ রাত ৫ দিনের থিম্পু-পারো কাপল/গ্রুপ প্যাকেজ" চাচ্ছেন।
  2. ভ্রমণের মাধ্যম নির্বাচন: আপনি সড়কপথে (বাই রোড) নাকি আকাশপথে (বাই এয়ার) যাবেন তা নিশ্চিত করুন। আকাশপথে গেলে তারা ড্রুক এয়ারের (Drukair) টিকিটসহ প্যাকেজ প্রাইস দেবে।
  3. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা: বুকিং কনফর্ম করার জন্য আপনার এবং আপনার সহযাত্রীদের পাসপোর্টের স্ক্যান কপি এবং ডিজিটাল ছবি তাদের কাছে ইমেইল বা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।
  4. SDF ফি ও পারমিট: আপনার ভ্রমণের দিন অনুযায়ী প্রতিদিনের জন্য ১৬ ডলার SDF ফি এবং পারমিটের যাবতীয় কাজ এজেন্সির প্যাকেজ মূল্যের সাথেই যুক্ত থাকবে। তারা আপনার ই-পারমিট প্রসেস করে প্রিন্ট কপি আপনার হাতে বুঝিয়ে দেবে।
  5. টোকেন মানি ও কনফার্মেশন: প্যাকেজের একটি নির্দিষ্ট অংশ অ্যাডভান্স পেমেন্ট করলে তারা আপনাকে হোটেল ভাউচার, গাইড ডিটেইলস এবং গাড়ি বুকিংয়ের কনফার্মেশন কপি মানি রিসিট সহ প্রদান করবে।
  • ঠিকানা: আলম প্লাজা (৩য় তলা), বড়পোল মোড়, হালিশহর রোড, চট্টগ্রাম।
  • মোবাইল: 01624-860431
  • হোয়াটসঅ্যাপ: 01677-735708/01624-860434




  • #ভুটানভ্রমণ
  • #ভুটানট্যুরপ্ল্যান
  • #মেঘেরদেশেভ্রমণ
  • #BhutanDiaries
  • #BhutanTravel
  • #ThimphuParo
  • #BestFlyToursAndTravels
  • #BestFlyTours
  • #চট্টগ্রামট্রাভেলএজেন্সি
  • #হালিশহর
  • #TravelAgencyChittagong


  • Tags

    Post a Comment

    0 Comments

    Post a Comment (0)

    #buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

    Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
    Ok, Go it!